November 23, 2017
BREAKING NEWS
  • পর্যটন বিচিত্রা___পড়তে পড়তে গন্তব্যে___ [ সাইটটি নির্মাণাধীন আছে ]
NOW

সম্পাদকীয়

শোকের মাস আগস্ট। এই মাসেই আমরা স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হারিয়েছি। আমরা পর্যটন বিচিত্রা পরিবার গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁদের।

প্রায় প্রতিবছরই হাওরের ফসল অতল জলে তলিয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদ পাই আমরা, এই বছর তা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তৈরি হয়েছে  অর্থনৈতিক মন্দা। অথচ অসাধারন প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ এই হাওড়ে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন পারে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ দেখাতে। হাওরের পর্যটনের দিকে সরকারের দৃষ্টি নিক্ষেপ তাদের পরিস্থিতি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সেইসাথে, বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রতিও আহ্বান থাকবে হাওরে ঘুরতে যাওয়ার। আমাদের ভ্রমণ ব্যয় তাদের অর্থনীতিকে করে তুলতে পারে গতিশীল ও টেকসই।

বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর প্রকৃতি নিঃসন্দেহে আকৃষ্ট করে পর্যটকদের, কিন্তু এগুলোই পর্যটন খাতে উন্নয়নের একমাত্র নিয়ামক নয়। পর্যটকদের নূন্যতম চাহিদার মধ্যে যে বিষয়গুলো থাকে তার অন্যতম একটি হল ‘খাবার’, সেইসাথে যেকোন দেশের খাদ্যসংস্কৃতিকে জানতে ‘স্ট্রিট ফুড’ এর কোন বিকল্প নেই। সম্প্রতি পর্যটন বিচিত্রা ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর উদ্যোগে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। আশা করা হচ্ছে এই  উদ্যোগ পালটে দেবে পথচলতি খাবারের অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশের মানুষের ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায় কক্সবাজারের পরেই আছে পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান। সম্প্রতি বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম ভূমিধ্বসে এই তিনজেলায় প্রাণহানী হয় দেড় শতাধিকের বেশি মানুষের। যারা বেঁচে আছেন, খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায়, বিদ্যুৎ না থাকায়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, জ্বালানীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তির শেষ ছিলো না মানুষের, সরকারের ও সর্বস্তরের জনগনের আশু পদক্ষেপে সেই পরিস্থিতি এখন একটু ভালোর দিকে গেলেও, ঈদ পরবর্তী ভরা পর্যটন মৌসুমেও ফাকা ছিলো এই তিন পার্বত্য জেলা। অথচ এই তিন জেলার বিপুল সংখ্যক লোকের রুটি-রুজি নির্ভর করে পর্যটনের ওপর। তাই এইদিকেও সরকারের সদয় দৃষ্টি আহ্বান করছি আমরা।

সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ঝর্না ঝিরিগুলো এখন অনেকটাই সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। অপেক্ষাকৃত সহজ ট্রেইল হওয়ায় বিপুল সংখ্যক দেশীয় পর্যটক ভ্রমণের জন্য বেছে নিচ্ছেন এই যায়গাগুলো। অথচ সামান্য সচেতনতার অভাবে পর্যটকদের ফেলে আসা অপচনশীল দ্রব্য আর বর্জ্যে সুন্দর পরিবেশ পরিণত হচ্ছে ভাগাড়ে। তাই সকল ভ্রমণপিপাসুর প্রতি আহ্বান রইল বেড়ানোর স্থানে পায়ের ছাপ ছাড়া আর কিছুই না রেখে আসার।

ভালো থাকুক প্রকৃতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ।

Copyright 2017 Parjatan Bichitra All Right Reserved