Site icon পর্যটন বিচিত্রা

হযরত শাহ মখদুম (র) মাজার

পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন

শাহ মখদুম রূপস (র.) চৌদ্দ শতকের একজন মুসলিম দরবেশ, যিনি বরেন্দ্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। ‘মখদুম’ অর্থ ধর্মীয় নেতা এবং ‘রূপস’ অর্থ আচ্ছাদিত। শাহ মখদুমের প্রকৃত নাম ছিল আব্দুল কুদ্দুছ জালালুদ্দীন। তিনি ছিলেন বড়পীর হজরত আব্দুল কাদের জিলানীর (র.) পৌত্র আজলা শাহের পুত্র।

৬৮৫ হিজরিতে (১২৮৬ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি তার বড় ভাই সৈয়দ আহমদ ওরফে মীরন শাহকে নিয়ে বাগদাদ থেকে এখানে আসেন। মীরন শাহ লক্ষ্মীপুর জেলার কাঞ্চনপুরে এবং শাহ মখদুম কাঞ্চনপুরের সন্নিকটে শ্যামপুরে খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি তার সঙ্গী সৈয়দ শাহ আব্বাস, সৈয়দ দিলাল বোখারী, শাহ সুলতান এবং শাহ করম আলীকে নিয়ে রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার বাঘায় চলে যান।

শাহ মখদুম নিজ মুখমণ্ডল এক টুকরা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতেন বলে তাকে রূপস বলা হতো। ৬৮৭ হিজরিতে (১২৮৮ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি বাঘা থেকে বোয়ালিয়ায় চলে আসেন। এখানে তার আগমনের সাথে অনেক অলীক কাহিনি এবং তার কারামত সম্পর্কে অনেক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কথিত আছে, তিনি কুমিরের পিঠে চড়ে নদী পার হয়ে এ এলাকায় আসেন। তিনি ওই এলাকার অত্যাচারী তান্ত্রিক রাজাকে পরাজিত ও নিহত করে জনগণকে রাজার অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন।

প্রায় অর্ধ শতক ধরে শাহ মখদুম বরেন্দ্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করে ৭১৩ হিজরির (১৩৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) ২৭ রজব মৃত্যুবরণ করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজের কাছে দরগাহ পাড়ায় তার মাজার রয়েছে। জনৈক আলীকুলী বেগ তার কবরের ওপর ১০৫৪ হিজরিতে (১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) একটি ক্ষুদ্র এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার সমাধি-সৌধ নির্মাণ করেন। প্রতিবছর ১০ই মহররম শাহ মখদুমের দরগায় একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাস এই দরবেশের নামে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ও ভক্ত তার মাজার জিয়ারতে আসেন।

Exit mobile version