পর্যটন বিচিত্রা ডেস্ক
আলো ঝলমলে এই রাজশাহীতে দেখার মতো অনেক স্থান রয়েছে। হাতে যদি থাকে দুই দিনের ছুটি থাকে, তাহলে ঘুরে দেখতে পারেন এই জেলার ২১ দর্শনীয় স্থান।
পুঠিয়া রাজবাড়ি ও পুরাকীর্তিসমূহ
রাজশাহী জেলা সদর থেকে ৩২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে পুঠিয়া উপজেলায় এই রাজবাড়িটি অবস্থিত। সপ্তদশ শতকে মোগলদের শাসনামলে স্থাপিত বাংলার প্রাচীনতম জমিদারিসমূহের মধ্যে পুঠিয়া জমিদারি অন্যতম। সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত এ প্রাসাদটি ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্ত কুমারী দেবী তার শাশুড়ি মহারানি শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করেন বলে জানা যায়।
কথিত আছে, জনৈক নীলাম্বর মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের (১৬০৫-২৭খ্রি.) কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর সেটি পুঠিয়া রাজবাড়িরূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হয়। সেই ভাগাভাগিতে জমিদারের বড় ছেলে পান সম্পত্তির সাড়ে পাঁচ আনা এবং অন্য তিন ছেলে পান সাড়ে তিন আনা। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে পুঠিয়া জমিদারিত্বের বিলুপ্তি ঘটে। কিন্তু জমিদারি বিলুপ্ত হলেও সে আমলে নির্মিত প্রাসাদ, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা এখনো টিকে রয়েছে। এই দোতলা রাজবাড়ি ভবনের সম্মুখে উত্তরদিকে খোলা প্রাঙ্গণের অপর পার্শ্বে রয়েছে ২০০ ফুট বিস্তৃত বিশাল পিরামিড আকৃতির চারতলা মনোরম দোলমঞ্চ। ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে একই ধরনের দুটি সম্প্রসারিত অংশ এবং মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে এক বিশাল তোরণ।
পুঠিয়া রাজবাড়ির আশপাশে ছয়টি রাজদিঘি রয়েছে। প্রতিটি দিঘির আয়তন ছয় একর। ছয়টি মন্দিরসহ মঠ ও অন্যান্য স্থাপনাসমূহের মধ্যে রয়েছে- বড় আহ্নিক মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, পঞ্চরত্ন শিব মন্দির, ছোট শিব মন্দির, গোবিন্দ মন্দির, দোলমঞ্চ মন্দির, কেষ্ট খেপার মঠ, খিতিশ চন্দ্রের মঠ, কৃষ্ণপুর ছোট গোপাল মন্দির ও রথবাগিচা বা হাওয়াখানা। প্রতিটি মন্দিরের দেয়ালেই অপূর্ব সব পোড়ামাটির ফলকের কারুকাজ রয়েছে। বাংলার বিভিন্ন গড়নরীতির মন্দিরগুলোর প্রতিটিই আকর্ষণীয়।
পঞ্চরত্ন শিব মন্দির বা ভূবনেশ্বর মন্দির
পুঠিয়া বাজারে প্রবেশ করতেই হাতের বাম পার্শ্বে দিঘির (শিব সাগর) দক্ষিণ পাড়ে এই মন্দিরটি অবস্থিত। ৪ মিটার (১৩ ফুট) উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত মন্দিরের প্রধান প্রবেশপথ দক্ষিণদিকে অবস্থিত। মন্দিরে উঠার জন্য দক্ষিণ দিকে সিঁড়ি আছে। মন্দিরের উপর চারকোণে চারটি এবং কেন্দ্রস্থলে একটি চূড়া বা রত্ন আছে। কেন্দ্রীয় চূড়াটি প্রায় ২০ মিটার (৬৬ ফুট) উঁচু। চতুষ্কোনাকৃতির কাঠামোর ওপরে পিরামিড আকৃতির চূড়াগুলো নির্মিত হয়েছে।
এগুলোর চার পার্শ্বে সন্নিবেশিত রয়েছে বিভিন্ন স্তরে মোচার আকারে নির্মিত অসংখ্য ছোট ছোট চূড়া, মন্দিরের দেয়ালের বহির্মুখে হিন্দু দেবদেবীর অলংকরণ ছিল। যা বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের কেন্দ্রীয় অংশে একটি বর্গাকার কক্ষ এবং চার কোণে চারটি কক্ষের মধ্যবর্তী স্থানে বারান্দা আছে। মন্দিরের কেন্দ্রীয় কক্ষে বৃহৎ আকারের শিবলিঙ্গ ও গৌরী পট রয়েছে। পুঠিয়ায় অবস্থিত মন্দিরগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি। ১৮২৩ সালে পাঁচআনি জমিদার বাড়ির রানি ভুবনময়ী দেবী এ মন্দির নির্মাণ করেন। এ মন্দিরকে ভুবনেশ্বর মন্দিরও বলা হয়ে থাকে।
রথবাগিচা বা হাওয়াখানা
পুঠিয়ার চারআনি রাজা পরেশ নারায়ণ বাংলা ১২৯৩ সালের (১৮৮৬ খ্রি.) পর রাজপ্রাসাদ থেকে ২ কিলোমিটার দূরে তারাপুর নামক স্থানে ৩০ বিঘা (১০ একর) স্থান নিয়ে বিশাল একটি পুকুর খনন করেন। এই পুকুরের এক প্রান্তে তিনি দৃষ্টিনন্দন একটি মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরটি একসময় রথবাগিচা নামে খ্যাত হলেও বর্তমানে এটি হাওয়াখানা নামে পরিচিত। জানা যায়, রাজা পরেশ নারায়ণ ২০ শতাব্দীর শুরুতে বিনোদনের জন্য এটি নির্মাণ করেন।
বাগধানী শাহী মসজিদ
রাজশাহী জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার বাগধানী তিন গম্বুজ মসজিদটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদের তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রায় ২০০ বছর আগে শাহী জামে মসজিদটি নির্মিত হয়। অতি প্রাচীন তিন গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৮০ ফুট ও প্রস্থে ৪০ ফুট। ক্ষেত্রফল ৩ হাজার ২০০ বর্গফুট মসজিটটির সদর দরজায় শিলালিপিতে ফার্সি হরফে লেখা অনুযায়ী উনবিংশ শতাব্দীর মুন্সি এনায়েতুল্লাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির ৩টি মেহরাব, ৩টি দরজা, ২টি জানালা ও একটি মিনার রয়েছে। মসজিদের চার কোনায় নকশা খচিত গম্বুজ আকৃতির মনোরম একটি পিলারও আছে। এছাড়াও মসজিদের চারপাশের দেয়ালে ভেতরে ও বাইরে চিনামাটির মনোরম নকশাও রয়েছে।
১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মসজিদকে ঘিরেই এখানে বারনই নদীর ঘাট ছিল। এখানে এখনো সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। ওই এলাকার একমাত্র প্রাচীন হাট এটিই। মসজিদটি গড়ে ওঠার পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এখানে মানত-সদকা করে থাকেন এবং নামাজ আদায় করেন।
হজরত শাহ মখদুম রূপস (র.)-এর মাজার
শাহ মখদুম রূপস (র.) চৌদ্দ শতকের একজন মুসলিম দরবেশ, যিনি বরেন্দ্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। ‘মখদুম’ অর্থ ধর্মীয় নেতা এবং ‘রূপস’ অর্থ আচ্ছাদিত। শাহ মখদুমের প্রকৃত নাম ছিল আব্দুল কুদ্দুছ জালালুদ্দীন। তিনি ছিলেন বড়পীর হজরত আব্দুল কাদের জিলানীর (র.) পৌত্র আজলা শাহের পুত্র। ৬৮৫ হিজরিতে (১২৮৬ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি তার বড় ভাই সৈয়দ আহমদ ওরফে মীরন শাহকে নিয়ে বাগদাদ থেকে এখানে আসেন। মীরন শাহ লক্ষ্মীপুর জেলার কাঞ্চনপুরে এবং শাহ মখদুম কাঞ্চনপুরের সন্নিকটে শ্যামপুরে খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি তার সঙ্গী সৈয়দ শাহ আব্বাস, সৈয়দ দিলাল বোখারী, শাহ সুলতান এবং শাহ করম আলীকে নিয়ে রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার বাঘায় চলে যান।
শাহ মখদুম নিজ মুখমণ্ডল এক টুকরা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতেন বলে তাকে রূপস বলা হতো। ৬৮৭ হিজরিতে (১২৮৮ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি বাঘা থেকে বোয়ালিয়ায় চলে আসেন। এখানে তার আগমনের সাথে অনেক অলীক কাহিনি এবং তার কারামত সম্পর্কে অনেক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কথিত আছে, তিনি কুমিরের পিঠে চড়ে নদী পার হয়ে এ এলাকায় আসেন। তিনি ওই এলাকার অত্যাচারী তান্ত্রিক রাজাকে পরাজিত ও নিহত করে জনগণকে রাজার অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন। প্রায় অর্ধ শতক ধরে শাহ মখদুম বরেন্দ্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করে ৭১৩ হিজরির (১৩৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) ২৭র জব মৃত্যুবরণ করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজের কাছে দরগাহ পাড়ায় তার মাজার রয়েছে। জনৈক আলীকুলী বেগ তার কবরের ওপর ১০৫৪ হিজরিতে (১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) একটি ক্ষুদ্র এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার সমাধি-সৌধ নির্মাণ করেন। প্রতিবছর ১০ই মহররম শাহ মখদুমের দরগায় একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাস এই দরবেশের নামে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ও ভক্ত তার মাজার জিয়ারতে আসেন।
বাঘা মসজিদ
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলার রাজশাহী-ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন বিশাল একটি দিঘির দক্ষিণ পাড়ে বিখ্যাত বাঘা মসজিদ অবস্থিত। এ মসজিদটি সুলতান নূসরত শাহ ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ করেন। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৩ মিটার (৭৬ ফুট) এবং প্রস্থ ১৩ মিটার (৪২ ফুট)। কালো পাথরের ৪টি থামের উপর মসজিদটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। যার ছাদে আছে ৪টি গম্বুজ, পশ্চিম দেয়ালে ২টি বড় এবং একটি ছোট মেহরাব। মসজিদের পূর্বদিকে ৫টি এবং উত্তর ও দক্ষিণে ২টি করে খিলান পথ রয়েছে। মসজিদ চত্বরে প্রবেশপথের উভয় পার্শ্বে একটি করে মিনার ছিল। মসজিদের ভেতর ও বাহির দেয়াল আরবি কারুকার্যখচিত ইট পাথর দ্বারা সুসজ্জিত।
ইট ও পোড়ামাটির টেরাকোটায় বিভিন্ন লতাপাতা, ফুল-ফল ইত্যাদি বিভিন্ন নকশা অলংকৃত এই অপূর্ব মসজিদটি মোগল-পূর্ব যুগের একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন। বাঘা মসজিদ সংলগ্ন দিঘিতে শীত মৌসুমে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। ঈদের পরদিন থেকে এখানে সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে। বাঘা মসজিদ বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি সংরক্ষিত ইমারত।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
রাজশাহী শহরে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর অবস্থিত। বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ১৯১৩ সালে স্থানীয় জাদুঘরগুলোর সংগঠকদের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেন এবং ১৯১৬ সালে তিনি এই জাদুঘর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল জাদুঘর পরিচালনার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করে। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে- বহু মূল্যবান পাথর ও ও নির্মিত ভাস্কর্য, খোদিত লিপি, মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও পোড়ামাটির ফলক, অস্ত্রশস্ত্র, আরবি ও ফারসি দলিলপত্র, চিত্র, বইপত্র।
শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
রাজশাহী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমদিকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে এই চিড়িয়াখানাটি অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে রেসকোর্স ময়দান হিসেবে ব্যবহৃত স্থানটি রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় রূপান্তরিত হয়। এক তথ্য থেকে জানা যায়, রেসের পর এখানে টমটম বা ঘোড়াগাড়ির দৌড়ও অনুষ্ঠিত হতো। রেস ও টমটম বন্ধ হওয়ার পর রাজশাহীর রেসকোর্স ময়দান দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। উদ্যান প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন মন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামানের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে ৩৩ একর জমিতে কেন্দ্রীয় উদ্যান স্থাপিত হয় এবং সাইট উন্নয়ন, লেক খনন এবং বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৮৩ সাল থেকে চিড়িয়াখানার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সাফিনা পার্ক
রাজশাহী জেলাধীন গোদাগাড়ী উপজেলায় সাফিনা পার্ক অবস্থিত। ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের দিগরাম খেজুরতলায় ৪০ বিঘা (১৩ একর) জমির ওপর সাফিনা পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। পার্কের ভেতরে দুটি কৃত্রিম হৃদে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য নৌকা রয়েছে। পার্কের সমস্ত এলাকাজুড়ে শোভিত ফুলের বাগানে রয়েছে বিভিন্ন জীবজন্তুর ভাস্কর্য। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সভা-সমাবেশ, কনসার্ট ও গান-বাজনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে।
পার্কটিতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুম। দর্শনার্থীদের খাবারের জন্য আধুনিক রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি রয়েছে কনফেকশনারি ও ফাস্টফুডের দোকান। এছাড়াও শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে পার্কে। এজন্য এখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের রাত্রীযাপনের জন্য পার্কে আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১৩টি অত্যাধুনিক কক্ষের মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। পার্কের ভেতরে ২টি পিকনিক স্পট রয়েছে। সবকিছু মিলেই সাফিনা পার্কের মনোরম পরিবেশ পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।
সরমংলা ইকোপার্ক
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় সরমংলা ইকোপার্ক অবস্থিত। ২০০৩ সালের দিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উপজেলার নিত্যনন্দপুর থেকে হরিশংকরপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার খাড়ি খনন করার পর দুই পাড়ে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। গাছের সারির মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয় সরু রাস্তা। আর খাড়ির কেন্দ্রভাগে বিশেষভাবে মাঠ তৈরি করে ফুলের বাগান ও বসার জন্য বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়। খাড়ির দুদিকে বিশাল ফসলের মাঠ রয়েছে- যেখানে ধান ও শাকসবজির চাষ হয়। খাড়ির পার্শ্বে নির্মিত বেঞ্চে বসে বেড়াতে আসা লোকজন সবুজের সমাহার ও পদ্মা নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি আনার দৃশ্য উপভোগ করে থাকে। এছাড়াও নৌকায় চড়ে খাড়ির এপার থেকে ওপার যাওয়া-আসা করা যায়।
রাজশাহী কলেজ
শহরের প্রাণকেন্দ্রে বোয়ালিয়া দরগাপাড়া এলাকায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটি অবস্থিত। দুবলহাটির রাজা হরলাল রায় বাহাদুরের আর্থিক সহযোগিতায় ১৮৭৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর পরই এটি পূর্ববঙ্গ, উত্তরবঙ্গ, বিহার, পূর্ণিয়া এবং আসাম অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন রাজশাহী জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হরগোবিন্দ সেন। অধ্যক্ষ রায় বাহাদুর কুমুদিনীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৭-১৯২৪ সময়কালে কলেজের প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। কলেজটি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ রূপে যাত্রা শুরু করলেও ১৮৭৭ সাল থেকে কলেজে ডিগ্রি কোর্স চালু হয়
১৯৯৬ সাল থেকে এইচএসসি কোর্স বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পুনরায় ২০১০ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স চালু করা হয়েছে। বর্তমানে কলেজটিতে ১৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স এবং ২১টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়। সুবিশাল পরিসরে স্থাপিত এই কলেজে বর্তমানে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২০০ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা রয়েছেন। কলেজের গ্রন্থাগারটি অনেক পুরনো বই, গেজেট, বিশ্বকোষ, পুথি, পাণ্ডুলিপি এবং পত্রপত্রিকা দ্বারা সমৃদ্ধ। এখানে প্রায় ৭০ হাজার বই রয়েছে। কলেজটিতে প্রশাসনিক ভবন ছাড়াও স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জিমনেসিয়াম, খেলার মাঠ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, পুকুর ও মসজিদ রয়েছে। এছাড়াও টিচার্স ক্লাব, বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শহীদ মিনার ও ৬টি হোস্টেল রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে মতিহার এলাকায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপচার্য নিযুক্ত করা হয়। ড. জুবেরী ও মাদার বখশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। ২৯৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেন আর্কিটেক্ট জন এ. জোমানেক।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে দুটি প্রশাসনিক ভবন, সিনেট ভবন, ৮টি একাডেমিক ভবন, ১৫টি আবাসিক হল, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবন, আইবিএস-এর প্রশাসনিক ভবন ও ডরমিটরি, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাকসু ভবন, মেডিক্যাল সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাপাখানা, জুবেরী ভবন, ক্যাফেটারিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ ভবন, চারুকলা বিভাগ, রেল স্টেশন, শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘সাবাস বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ সহস্রাধিক এবং শিক্ষকের সংখ্যা ৮ শতাধিক। এছাড়াও এখানে দুই সহস্রাধিক কর্মকর্তা/কর্মচারী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এখানে অধ্যাপনা করেন। যাদের মধ্যে- ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, ইতিহাসবিদ ডক্টর এ. আর মল্লিক, ড. আব্দুল করিম ও ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবন ১৯৬৪ সালে নির্মিত হয়। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রন্থাগার। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খুবই সক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগে ২৭ জন শিক্ষক আছেন। শরীরচর্চা বিভাগের অধীনে ২৫,০০০ আসনবিশিষ্ট ১টি স্টেডিয়াম, ২টি জিমনেসিয়াম, ১টি সুইমিংপুল, ৪টি ফুটবল খেলার মাঠ, ১টি হকি মাঠ, ৪টি লন টেনিস কোর্ট, ২টি বাস্কেটবল কোর্ট, ১টি স্কোয়াশ কোর্ট আছে।
প্রতিটি জাতীয় আন্দোলন ও সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ অংশগ্রহণ করেছে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর শামসুজ্জোহা প্রক্টর হিসেবে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হলে আইয়ুব খানের পতন ত্বরান্বিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষক ১৫ জন কর্মচারী এবং ৯ জন ছাত্র শহিদ হন। গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ মনোরম পরিবেশে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অনেকেই এখানে এসে থাকেন।
রেশম কারখানা
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রেশম কারখানা রাজশাহী শহরের বালিয়াপুকুর নামক স্থানে অবস্থিত। ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রথম চীন দেশে রেশম চাষ শুরু হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান উপকরণ হিসেবে এই রেশম তৈরি প্রক্রিয়ার ইতিহাস শুরু হয়েছিল বহু শতাব্দী আগ থেকেই। এদেশে উৎপাদিত রেশম স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পরও প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এই রেশম বাজারই প্রথম ইউরোপীয় বণিকদের বাংলায় আসতে আকৃষ্ট করে। ১৮৭০-এর দশকে এক হিসাবে জানা যায়, রাজশাহীতে রেশম উৎপাদনে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার লোক নিয়োজিত ছিল।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ রেশম শিল্পের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর ফলে ১৯৬২ সালের মধ্যে সরকারি অর্থায়নে রাজশাহী রেশম ফ্যাক্টরি চালু হয়। স্বাধীনতার পর রেশম শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করার ফলে এ শিল্প বৈদেশিক সাহায্য এবং কারিগরি সহায়তা লাভ করে। ১৯৭৭ সালে রেশম খাতের কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে রাজশাহী জেলা শহরে বাংলাদেশ সেরিকালচার বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। রেশম শাড়ি বাঙালি রমণীর ঐতিহ্যগত সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রের প্রতীক। রেশম কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইন ও ধরন- গরদ, মটকা, বেনারসি প্রভৃতি নামে পরিচিত।
রাজশাহী সুগার মিলস
পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নে এই চিনি শিল্প কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। এই ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ানা চিনি কল নামেও পরিচিত। ১৯৬২ সালে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৬৫ সালে সমাপ্ত হয় এবং ১৯৬৫-৬৬ সাল থেকে মিল থেকে চিনি উৎপাদন শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। এই বৃহদায়তন শিল্প কমপ্লেক্সটি চিনি কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও জৈব সার কারখানা এবং অফিস ও আবাসন ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। কারখানা, অফিস, আবাসিক কলোনি, স্কুল, মসজিদ ও খেলার মাঠ ইত্যাদিসহ মিলের মোট জমির পরিমাণ ২৩০ একর (৬৯০ বিঘা)। মিলটির নিজস্ব ৮৪ একরসহ (২৫২ বিঘা) খামারভুক্ত মোট জমির পরিমাণ ২,৫০০ একর (৭৫০০ বিঘা)। এই মিলের দৈনিক আখ মাড়াই করার ক্ষমতা ২,০০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেট্রিক টন। এখানে চিনি ছাড়াও চিটাগুড়, ব্যাগাস ও প্রেসমাড উপজাত দ্রব্য উৎপাদিত হয়।
পর্যটন মোটেল, রাজশাহী
রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে আব্দুল মজিদ রোডে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল রয়েছে। পর্যটকদের পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তনের অংশ হিসেবে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক কিছুটা ভিন্ন স্থাপত্যরীতিতে এ মোটেলটি নির্মাণ করা হয়। মোটেলটিতে ৪৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ছোট ও মাঝারি আকৃতির দুইটি কনফারেন্স হল, ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাঝারি আকৃতির একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে দেশি-ইন্ডিয়ান-চাইনিজসহ প্রায় সকল ধরনের খাবার পাওয়া যায়।
পদ্মার পাড় ও টি গ্রোয়েন
বিনোদন পিপাসুদের কোলাহলে পদ্মার পাড় মুখরিত থাকে সবসময়। শহরের পঞ্চবটি আই বাঁধ থেকে শ্রীরামপুর টি-বাঁধ পর্যন্ত অংশটিতে বিনোদনপ্রেমী মানুষের বেশি সমাগম দেখা যায়। পদ্মা নদীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নৌকা ভ্রমণে বের হন আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দেন। এছাড়াও বিজিবির সীমান্ত অবকাশ নোঙ্গর এলাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। পদ্মাতীর ঘেঁষে নির্মিত রাস্তা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় অগণিত মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
এছাড়াও পদ্মা নদীতীরের টি (T) আকৃতির গ্রোয়েন মহানগরীর আরেকটি বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ বিশাল নীলাকাশের নিচে সূর্যের সোনালি কিরণ মাখা পদ্মার ওপারের বেলে ভূমি, সবুজ প্রকৃতি দেখা ও নদীর হিমেল বাতাস গায়ে মেখে সারাদিনের অবসাদ দূর করার জন্য ভিড় জমান। অনেকে ভাড়া নৌকায় পদ্মার ওপারে ঘুরে আসেন। দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে পদ্মা পাড়ের চটপটি থেকে শুরু করে ফুটপাতের খাবার দোকানগুলোর ব্যবসা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট হয়ে থাকে।
গগনবাড়িয়ার গণকবর
রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারের কাছে এই গণকবরটি অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ২২ অক্টোবর পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। নিহত শহিদদের স্মরণে গগনবাড়িয়ায় গণকবর সৌধটি নির্মাণ করা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসেন।
কালাচাঁদ শাহ-এর মাজার
কালাচাঁদ শাহের মাজার রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া কলেজ মোড়ে অবস্থিত। মাজারে প্রতিবছর তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ১৫, ১৬ ও ১৭ই মাঘ আয়োজিত ওরসে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তরা ভিড় জমায়।
জাহানাবাদ সমাধি সৌধ
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী-নবাবগঞ্জ সড়কের ডানদিকে গোদাগাড়ী থানার জাহানাবাদ গ্রামে এ সমাধি সৌধটি অবস্থিত। ইটের নির্মিত বর্গাকার সমাধি সৌধটির প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৬ মিটার। সমাধিটি একটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। নামফলক থেকে জানা যায়, এটি সৈয়দ মহিউদ্দিন শাহ্ ওরফে ঝুনঝুনি শাহ (র.)-এর মাজার। তিনি ১০৭৬ হিজরিতে (১৬৭৫ খ্রি.) মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার এখানে ওরস অনুষ্ঠিত হয়।
অতিথি পাখির গ্রাম পচামাড়িয়া
পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের একটি বৃহৎ গ্রাম পচামাড়িয়া। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, পচামাড়িয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাখির গ্রাম। এখানে সারাবছর বিভিন্ন প্রকার দেশি ও অতিথি পাখির আগমন ঘটে। বারনই নদীর অববাহিকার এই ইউনিয়নের খাল-বিলে বৎসরের অনেকটা সময় জলাবদ্ধতা থাকে। ফুল, ফল, ফসলে ও গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ, সুন্দর, মনোরম শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ৪২ বর্গকিমি. এলাকার খাল-বিলে শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। পচামাড়িয়া গ্রামে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে পাখি আসা আরম্ভ হয়ে মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকে। তবে বেশি পাখি দেখা যায় ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি মাসে।
সারাবছর এখানে বিশেষত বাঁশঝাড়গুলোতে পাখি থাকে। যেসব পাখি প্রধানত শীতকালে বেশি আসে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- শামুকখোল, পানকৌড়ি, বকসহ বিরল প্রজাতির অন্যান্য পাখি আসা আরম্ভ হয়ে মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকে। তবে বেশি পাখি দেখা যায় ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি মাসে। সারাবছর এখানে বিশেষত বাঁশঝাড়গুলোতে পাখি থাকে। যেসব পাখি প্রধানত শীতকালে বেশি আসে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- শামুকখোল, পানকৌড়ি, বকসহ বিরল প্রজাতির অন্যান্য পাখি।
রাজা কংস নারায়ণের মন্দির বা তাহেরপুর দুর্গা মন্দির
রাজশাহী শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে রাজা কংস নারায়ণের মন্দির বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মন্দির। তাহেরপুর রাজবংশ বাংলাদেশের প্রাচীন রাজবংশগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এই বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামন্ত রাজা ছিলেন ইতিহাসখ্যাত কংস নারায়ণ রায়। রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে (৮৮৭ বঙ্গাব্দ) এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
কথিত আছে, অসুরের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির লক্ষ্যে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে রাজা কংস নারায়ণ সাড়ে আট লাখ টাকা ব্যয়ে বারনই নদীর পূর্ব তীরে রামরামা গ্রামের দুর্গা মন্দিরে আধুনিক শারদীয় দুর্গাপূজার প্রবর্তন করেন। বলা হয়, এরপর থেকে এ উপমহাদেশে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গা উৎসবের শুরু হয়। রাজা কংস নারায়ণ মোঘল আমলে কিছুকাল বাংলা-বিহারের অস্থায়ী দেওয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি ‘রাজা’ উপাধি পান। একপর্যায়ে রাজবাড়ির এই মন্দিরটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
এছাড়াও দেখতে পারেন বড় আহ্নিক মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, ছোট শিব মন্দির, গোবিন্দ মন্দির, দোলমঞ্চ মন্দির, কৃষ্ণপুর ছোট গোপাল মন্দির (সালামের মাঠ), কেষ্ট খেপার মঠ, খিতিশ চন্দ্রের মঠ (শিব মন্দির), জগদ্ধাত্রী মন্দির, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স, ঝালুকা মাজার, বাঘা জাদুঘর রাজশাহী, কিসমত মারিয়া মসজিদ, দানেশমন্দ (র.)-এর মাজার, পাঁচুবাড়ী পাঁচ গম্বুজ মসজিদ, বড়কুঠি ও শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা।
ভ্রমণের প্রস্তুতি:
পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও ছোট কিছু ভুল আপনার আনন্দময় ভ্রমণকে বিব্রতকর করে তুলতে পারে। তাই ভ্রমণকে আরো উপভোগ্য এবং স্মরণীয় করে তুলতে কিছু প্রস্তুতি অবশ্যই প্রয়োজন। ভ্রমণের প্রস্তুতির জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারেন।
লিস্ট তৈরি করা
ভ্রমণের সময় আপনি কী কী করবেন এই পরিকল্পনাগুলো লিখে ফেলুন। এতে করে আপনার ভ্রমণের সময় যথাযথ ব্যবহার করা যাবে। লিস্ট অনুযায়ী ঠিক করুন কোথায় কোথায় যাবেন এবং সেখানে কত সময় অতিবাহিত করবেন।
হালকা লাগেজ
লাগেজ যতটা সম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস এড়িয়ে চলুন। তাহলে আপনি খুব সহজেই ব্যাগ বহন করতে পারবেন। অন্যথায় ভারী ব্যাগ আপনার ভ্রমণকে তিক্ত করে তুলতে পারে।
সঠিকভাবে প্যাকিং
স্যান্ডেল বা জুতা পলিথিন বা কাগজে মুড়িয়ে ব্যাগে নিন এতে কাপড় ও অন্যান্য জিনিস পত্র নোংরা হবে না। এ জাতীয় ছোট ছোট বিষয়ে খেয়াল রাখুন।
স্থানীয় খাবার
ভ্রমণে যতটুকু সম্ভব স্থানীয় খাবার খাবেন এবং সেই খাবারের স্বাদ বুঝতে চেষ্টা করবেন। আপনি যদি ঘুরতে গিয়ে নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাবার খান তাহলে আপনার ঘুরতে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। তাই ট্যুরিস্ট রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে স্থানীয় লোকজন যেখানে খায় সেখানে খাবার চেষ্টা করুন।
অফ-সিজন ভ্রমণ
ভ্রমণ মৌসুমের বাইরে ভ্রমণ করলে খরচ কমে আসবে। অফ সিজনে সাধারণত পর্যটক কম থাকে। তাই হোটেল থেকে শুরু করে পরিবহন ও খাবার প্রায় সব জায়গাতেই আপনি কম খরচে চলতে পারবেন। তাই অফ সিজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন।
যাতায়াতের ব্যবস্থা
ভ্রমণের স্থানের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিন। কারণ এসব ভ্রমণে আমাদের সবচেয়ে বেশি ঠকতে হয় স্থানীয় যানবাহন ভাড়া নিয়ে। ভাড়া সম্পর্কে ধারণা না থাকলে গাড়িচালকরা আপনার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া চাইবেন।
অতিরিক্ত টাকা
ভ্রমণে সবসময় আপনার বাজেটের বাইরে কিছু টাকা সাথে রাখুন। যেকোনো সময় যেকোনো বিপদে এই অতিরিক্ত টাকা আপনাকে হেল্প করবে। আপনি চাইলে মোবাইল ব্যাংকিং বা ডেবিট ক্রেডিট কারডের মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত টাকা সাথে রাখতে পারেন।
ছোট ব্যাগ
ভ্রমণে মোবাইল, মানিব্যাগ ও ছোট ছোট দরকারি জিনিসপত্র রাখার জন্য ছোট একটি ব্যাগ সঙ্গে রাখুন। কিছু ব্যাগ পাওয়া যায় যেটি কোমরে রাখা যায়।
চার্জার
মোবাইল ও ল্যাপটপের চার্জার নিতে ভুলবেন না। পাওয়ার ব্যাংক হলে সবচেয়ে ভালো হয়। রুমের বাইরে যাবার সময় পাওয়ার ব্যাংকটি সঙ্গে নিতে পারেন। ছবি তোলার ক্ষেত্রে মোবাইলের চার্জ অনেক বেশি খরচ হয়। তাই পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখা নিরাপদ।
ইয়ারফোন
ভ্রমণের সময় কাটানোর জন্য ইয়ারফোন বা এমপিথ্রি প্লেয়ার সঙ্গে নিতে পারেন। ছোট মাপের কোনো স্পিকার সঙ্গে নিতে পারেন। এতে করে গ্রুপের সবাই একসঙ্গে গান শুনতে পারবেন এবং একটি ভালো আড্ডা জমে উঠবে।
ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে আকাশপথ, সড়কপথ, রেলপথ তিন উপায়েই রাজশাহী যাওয়া যায়। সড়কপথে ঢাকা মহাখালী, শ্যামলী ও গাবতলী থেকে সরাসরি রাজশাহী বাস চলাচল করে। গ্রিনলাইন, একতা, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ, শ্যামলী পরিবহন উল্লেখযোগ্য। এসি-নন এসিভেদে এসব বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা।
সহজ ডট কমের মাধ্যমে অনলাইনে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন বাসের টিকিট। টিকিট কাটতে এখানে ক্লিক করুন। এছাড়া বাসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়েও টিকিট কাটতে পারেন।
ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিল্কসিটি, পদ্মা, ধুমকেতু, বনলতা ও মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়া যায়। এসি-ননএসি কেবিনভেদে ট্রেনের টিকেটের মূল্য ৩৪০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। ট্রেনের টিকিট কাটতে এখানে ক্লিক করুন।
বিমানে যেতে চাইলে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যেতে হবে। ফ্লাইটভেদে বিমানের টিকেটের মূল্য ৩৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা। ফ্লাইট ও শিডিউল অনুযায়ী প্লেনের ভাড়া কমতে বা বাড়তে পারে। আর বিমানে যেতে বিমান বাংলাদেশের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। বিমান বাংলাদেশের টিকিট কাটতে এখানে ক্লিক করুন।
যেখানে থাকবেন:
রাজশাহীতে পাঁচ তারকা মানের হোটেল না থাকলেও বেশকিছু ভালো মানের হোটেল রয়েছে। এসি-ননএসি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী এসব হোটেলে রাত্রিযাপন করলে গুনতে হবে ৬০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা। উন্নতমানের হোটেলগুলোর মধ্যে—
গ্রান্ড রিভারভিউ হোটেল
ঠিকানাঃ ২৩২ কাজীহাঁটা, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৮৭৭-৭৬৬৯৬৬
ওয়েবসাইট: grandriverviewbd.com
রয়্যাল রাজ হোটেল অ্যান্ড কন্ডোমিনিয়াম
ঠিকানা: ২৬ ও ২৭ গণকপাড়া, বোয়ালিয়া, রাজশাহী
মোবাইল ০১৩২১২৩১৭৫৫
ওয়েবসাইট: royalrajbd.com
হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল
ঠিকানা: সাহেব বাজার, গণকপাড়া রোড, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭৪০-১৩৩৯৩৩
ওয়েবসাইট: hotelnicebd.com
অরণ্য রিসোর্ট
ঠিকানা: আব্দুল মজিদ রোড, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৩২৬-৯১৯০২০
ওয়েবসাইট: aronnoresort.com
গ্রিন সিটি ইন্টারন্যাশনাল
ঠিকানা: শেরশাহ রোড, লক্ষ্ণীপুর, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭৯১৭১১১৩৩
ওয়েবসাইট: greencityint.com
হোটেল এক্স রাজশাহী
ঠিকানা: চন্ডীপুর রোড, লক্ষ্ণীপুর, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৮৪৪-০০৪২০০
যাত্রা ফ্ল্যাগশিপ হোটেল
ঠিকানা: বাড়ি-৫২, রোড ৪, পদ্মা আবাসিক, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭০০-৭০৬৯৫১
রত্নদ্বীপ রিসোর্ট, রাজশাহী
ঠিকানা: ঢাকা পাবনা হাইওয়ে রোড, জালালপুর
মোবাইল: ০১৭৩০-৩১৮৯৫৩
হোটেল মুন
ঠিকানা: সাহেব বাজার রোড, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭০১-৯৮৮২৬০
সুকর্ণ হোটেল
ঠিকানা: মালোপাড়া, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭১১-৮১১০১৪
পর্যটন মোটেল
ঠিকানা: আব্দুল মজিদ রোড, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭৭৮-৪০৩২২৫
হোটেল জমজম
ঠিকানা: হেতমখাঁ, বোয়ালিয়া, রাজশাহী
মোবাইল: ০১৭১৩-৭২৫৬৩৯
যা খাবেন:
রাজশাহীতে অনেক জনপ্রিয় খাবার রয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী্র উপশহরে কয়েকটি কালাই রুটির দোকান রয়েছে। রাজশাহীর এ কালাই রুটি অনেক জনপ্রিয় খাবার। হাঁসের মাংস, বেগুন ভর্তাসহ অনেক প্রকারের ভর্তা দিয়ে কালাই রুটি পাওয়া যায়। এ ছাড়া, রাজশাহীর কাটাখালীর গরুর মাংস অথবা হাঁসের মাংসের কালাভুনা খেতে ভুলবেন না।
সতর্কতা:
ইট-পাথরের শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে ভ্রমণের জন্য আকুল থাকে মন। তবে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে ভ্রমণ হয়ে উঠবে আরো আনন্দময়। ভ্রমণে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে—
পরিকল্পিত ভ্রমণ
পরিকল্পিতভাবে ভ্রমণ করলে যাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ হয়। যদি বাস বা ট্রেনের টিকিট বুকিং করার সুযোগ থাকে, তাহলে মাঝামাঝি আসন নিন। রাতের বেলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে জানালার পাশে বা বাসের খুব পেছনের আসন এড়িয়ে চলাই ভালো
নির্ভরযোগ্য যানবাহন ব্যবহার
নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য বাস বা যানবাহন বেছে নিন। সরকারি বা স্বীকৃত পরিবহন সংস্থার যানবাহন ব্যবহার করুন। বাস বা গাড়ির রুট ও সময়সূচি সম্পর্কে আগেই জেনে নিন। অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পরিষেবা (যেমন উবার, পাঠাও) ব্যবহার করলে গাড়ির তথ্য যাচাই করুন।
নিজের অবস্থান গোপন রাখুন
বর্তমান যুগে অনেকেই নিজের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। যারা সন্ধ্যার পর বা রাতে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য এটি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অপরিচিতদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। যদি সম্ভব হয়, যাত্রাপথের লাইভ লোকেশন পরিবার বা বন্ধুকে শেয়ার করুন।
চারপাশ পর্যবেক্ষণ করুন
অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত কথা বলা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা এড়িয়ে চলুন। ব্যস্ত থাকলেও মোবাইলে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন না, চারপাশের পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে বা অনুভব করলে বাসচালক বা সহযাত্রীদের জানান।
ভিড় এড়িয়ে চলুন
খুব বেশি ভিড় থাকলে বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে সেই যানবাহনে না ওঠাই ভালো। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র যেমন মানিব্যাগ, ফোন বা ব্যাগ নিজের কাছেই রাখুন।
আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন
প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য ছোটখাটো সরঞ্জাম (যেমন: পেপার স্প্রে, হুইসল, ফোল্ডিং মেটাল সেফটি রড, ইত্যাদি ) সঙ্গে রাখতে পারেন। ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডাটা চালু রাখুন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে পারেন।
জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন
স্থানীয় পুলিশ, বাস সার্ভিস হেল্পলাইন ও পরিচিতজনের নম্বর সহজেই পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। বিপদের সময় ৯৯৯ (বাংলাদেশের জরুরি সেবা) তে কল করুন।
যাত্রাপথে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কিছু খাবেন না
যাত্রাকালে অনেক যাত্রী পার্শ্ববর্তী যাত্রীকে ভদ্রতার খাতিরে বা বন্ধুসুলভভাবে খাদ্য-পানীয় গ্রহণে অনুরোধ করেন। যাত্রীর ছদ্মবেশে অনেক সময় মলম পার্টির লোকেরা খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে দেয়। এই খাবার গ্রহণের পর যাত্রীরা অচেতন হয়ে পড়লে তারা সর্বস্ব লুটে নেয়। এধরণের পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কিছু না খাওয়া নিরাপদ।
মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখুন
অনেকেই বাসে বা গণপরিবহনে যাত্রাকালে মোবাইল ফোন বের করে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করেন। এ ধরনের অভ্যাস ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বসলে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন বের না করে নিরাপদ। সম্ভব হলে, যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোন বের না করে, নিরাপদে পকেটে বা ব্যাগে রাখুন।