পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
আফ্রিকা: নামিব মরুভূমি মিশেছে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে
আফ্রিকার নামিব মরুভূমি এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পেয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থানগুলোর একটি এই মরুভূমি। তিনটি দেশে প্রায় ৮১ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত নামিব। কমপক্ষে ৫৫ মিলিয়ন বছর বয়সী নামিবকে বিশ্বের প্রাচীনতম মরুভূমি বলে মনে করা হয়। অঞ্চলটার কোথাও মঙ্গল গ্রহের মতো উঁচু বালুর টিলা, কোথাও এবড়োখেবড়ো পাহাড়, আবার কোথাও বা নুড়ি সমভূমি। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতে এটাই আবার হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়। পৃথিবীর অন্যতম পুরোনো সমুদ্র ও মরুভূমি এখানে মিলেমিশে আছে। আটলান্টিক মহাসাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ যখন নামিব মরুভূমির উপকূলে ছুটে আসে তখন সে দৃশ্য হয় দেখার মতো। এখানকার উপকূলবর্তী স্থানে বেশ কয়েকটি ছোটো ছোটো গ্রাম রয়েছে। যদিও গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় হাতে গোনা। নিরিবিলি যারা ভালোবাসেন তাদের এই স্থান ভালো লাগবে।
আফ্রিকা: আটলান্টিক মহাসাগর মিলিত হয় সাহারা মরুভূমিতে
পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর আর পূর্বে লোহিত সাগরকে নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে স্বমহিমায় বিরাজমান সাহারা মরুভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর এই এলাকায় অবস্থান করছে বেশ কয়েকট শহর। সেই শহরের লাল, হলদে রঙের রঙিন বাড়িগুলো যেন এক একটা হাতে আঁকা ছবি। আটলান্টিক মহাসাগর এবং আটলাস পর্বতমালার মাঝখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শত শত পুরোনো পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ।
অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ান মরুভূমি মিলিত হয়েছে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে
দিগন্ত বিস্তৃত ভারত মহাসাগর তার আবেগঘন মুহূর্তে আছড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয় মরুভূমির বুকে। যুগ যুগ ধরে এই ঘটনার সাক্ষী অস্ট্রেলিয়ার পার্থ। মূলত সমুদ্র সৈকত এবং চুনাপাথরের পাহাড়ে পরিপূর্ণ এই উপকূলীয় শহরের সৌন্দর্য্য এক কথায় অনবদ্য। অস্ট্রেলিয়ান মরুভূমিটি এখানেই ভারত মহাসাগরের সঙ্গে মিশেছে। এখানে মহাসাগরের উজ্জ্বল নীল জলের দাপটকে যেন আটকে রেখেছে আগ্নেয় শিলার পাহাড়গুলো। এই সাগরের বেশ কিছু স্থানে রয়েছে প্রবালের প্রাচীর। সমগ্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এক কথায় অসাধারণ। যদিও সেসব এখনো পুরোপুরি আবিষ্কৃত হয়নি।
চিলি: আতাকামা মরুভূমি মিলত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে
উত্তর চিলির আন্তোফাগাস্তা অঞ্চলে সমুদ্র এবং মরুভূমি মিলিত হয়েছে। এরা হলো প্রশান্ত মহাসাগর এবং আতাকামা মরুভূমি। এই এলাকাটি একটি পরিত্যক্ত নাইট্রেট খনি অঞ্চল। এলাকাটি বিখ্যাত ভূতুরে শহর নামে। এখানকার বিশালার পাহাড় এবং আদিম সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখতে দেখতে অবাক হয়ে যাবেন। এই স্থানটিকে দেখতে অনেকটা চাঁদের মতো। এই অঞ্চলের সেরা দর্শণীয় স্থান হলো লস ফ্ল্যামেনকোস ন্যাশনাল রিজার্ভে অবস্থিত চাঁদের উপত্যকা। রাতের বেলা এই এলাকাটি এমনই মায়াবি হয়ে ওঠে যে দেখলে মনে হয় যেন রূপকথার রাজ্যে এসে পড়েছেন।
অ্যান্টার্কটিকা: মেরুদেশের সঙ্গে সমুদ্রের মিলন
মরুভূমি বললেই মনে পড়ে যায় বালি, গরম, রুক্ষ-শুষ্ক এলাকা এবং শুষ্ক টিলা। তবে আন্টার্কটিকার সেরু অঞ্চলের মরুভূমি কিন্তু সেই চির পরিচিত মরুভূমির থেকে অনেকটাই আলাদা। এখানকার মরুভূমি বরফে ঢাকা, কনকনে ঠান্ডা এবং একেবারে আশ্চর্যজনক। এক কথায় বালির মরুভূমির থেকে একেবারেই উল্টো। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ জুড়েই রয়েছে মেরুদেশের মরুভূমি। এর চারদিকে শুধু বরফ আর বরফ। ম্যাকমুর্ডো শুষ্ক উপত্যকার এলাকায় মরুভূমিটি বরফহীন হয়ে পড়ে এবং সেখানেই সেই মরুভূমি মিলিত হয় অ্যান্টার্কটিকার উপকূলবর্তী সমুদ্রে। স্থানের সৌন্দর্য্যের কোনো তুলনা হয় না।