পর্যটন বিচিত্রা ডেস্ক
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তৎকালীন রাজাকার বাহিনী এর প্ররোচনায় কোনরকম উস্কানী ছাড়াই পাক সেনারা ১২২ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। পাগলা দেওয়ানে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ক্রাম্প ও বাঙ্কার । স্থানীয়ভবে হত্যা ও নির্যাতন ছাড়াও মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ যারা প্রানের ভয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয়ের জন্য এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তাদেরকে ধরে লুটপাট করে নির্মমভাবে হত্য করা হয়েছিল এই বধ্যভুমিতে।
স্বাধীনতার পর প্রায় দুই তিন মাস পর্যন্ত পচা লাশের গন্ধে এই এলাকার মানুষ বসবাস করতে পারেনি। চাষের জমিতে কোপ দিলেই বেড়িয়ে আসলো অর্ধ গলিত লাশের হাড় গোড়। ১৯৯২ সালে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় এই বধ্যভূমিটি সম্পর্কে দেশবাসী জানতে পারে। উক্ত স্থানে গণপূর্ত বিভাগের তত্তবাবধানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের সর্বোচ্চ স্তম্ভটি কালো টাইলস বা টালি নির্মিত। স্তম্ভের বেদিটি লাল ইটের তৈরি। ইটের তৈরি একটি দেয়াল সম্পূর্ণ স্তম্ভের সবচাইতে বড় অংশটি দখল করে আছে। দেয়ালটির দুদিক ভাঙা। এ ভগ্ন দেয়াল ঘটনার দুঃখ ও শোকের গভীরতা নির্দেশ করছে। দেয়ালের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে একটি জানালা আছে। এ জানালা দিয়ে পেছনের আকাশ দেখা যায়। জানালাটি দেয়ালের বিশালতাকে কমিয়ে আনে।