পর্যটন বিচিত্রা ডেস্ক
অনেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে আমের শহর’ বা ‘আমের দেশ’ বলেও জানে। এই জেলায় বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত আমের একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় যার ফলে একে ‘আমের রাজধানী’ বলা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রতণসম্পদে সমৃদ্ধ একটি জেলা। চলুন জেনে নেয় এই জেলার ১২ দর্শনীয় স্থান।
সোনা মসজিদ বা ছোট সোনা মসজিদ
‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বা ‘গৌড়ের রত্ন’ নামে খ্যাত ছোট সোনা মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ফিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত। বিশাল একটি দিঘির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তজুড়ে এর অবস্থান। প্রধান প্রবেশপথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী, জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ-এর রাজত্বকালের (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.) কোনো এক সময়ে নির্মিত হয়।
মসজিদের গম্বুজগুলোর উপর অংশে সোনালি গিল্টির ব্যবহারের কারণে সূর্য বা চাঁদের আলোতে স্থাপনাটিকে সম্পূর্ণরূপে স্বর্ণ নির্মিত বলে মনে হতো, যা এখন আর অবশিষ্ট নেই। স্কটিশ অভিযাত্রিক হেনরি ক্রাইটন ও ব্রিটিশ প্রকৌশলী ও প্রত্নতত্ত্ববিদ কানিংহামের বর্ণনা থেকে জানা যায়, একসময় বাইরের দিকে পুরো মসজিদটির উপর সোনালি রঙের আস্তরণ ছিল।
ধারণা করা হয়, এসকল বৈশিষ্ট্যের কারণে সোনা মসজিদ নামকরণ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত সুলতানি আমলের নিদর্শনগুলোর মধ্যে ছোট সোনা মসজিদ সর্বোত্তম। উল্লেখ্য, প্রাচীন গৌড়ে আরেকটি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ আকৃতির মসজিদ রয়েছে- যা বড় সোনা মসজিদ নামে পরিচিত। সেটি নির্মাণ করেন সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরত শাহ এবং এটি বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে অবস্থিত। এ কারণে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত মসজিদটিকে ছোট সোনা মসজিদ বলা হয়।
১৫ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ২৫ মিটার (৮২ ফুট) লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে ১৬ মিটার (৫৩ ফুট) প্রশস্ত এবং উচ্চতা ৬ মিটার (২০ ফুট)। এ মসজিদের বিশেষত্ব হচ্ছে, ইট ও পাথরে নির্মিত মসজিদের ভেতর ও বাহিরের দেয়াল গ্রানাইট পাথর দ্বারা আচ্ছাদিত। মসজিদের গায়ে আচ্ছাদিত পাথরখণ্ডে টেরাকোটার অলংকরণ রয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে গম্বুজ ও খিলানগুলো চুন-সুরকির আস্তরণ দেয়া এবং পোড়ামাটির ফলক নানা ধরনের ফুলের মোটিফ দ্বারা অলংকৃত।
খিলানের স্প্যাড্রিল ও ফ্রেমের উপরের স্থানগুলো আকর্ষণীয় গোলাপ ফুলের নকশা দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। মসজিদ গাত্রে লাগানো অনেক মূল্যবান প্রস্তরখণ্ড পরবর্তীতে হারিয়ে যায়- যার কিছু ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বলে জানা যায়।
মসজিদের পূর্বদিকের সম্মুখভাগে পাঁচটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে। পশ্চিম দেয়ালের অভ্যন্তরে রয়েছে পাঁচটি অর্ধবৃত্তাকার মেহরাব। অধিকাংশ মেহরাবের পাথর সরিয়ে নেয়ার ফলে সমগ্র পশ্চিম দেয়াল অনাবৃত হয়ে পড়েছেমসজিদের অভ্যন্তরের ৮টি স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের উপর তৈরি হয়েছে মসজিদের মোট ১৫টি গম্বুজ। মাঝের মেহরাব ও পূর্ব দেয়ালের মাঝের দরজার মধ্যবর্তী অংশে ছাদের উপর যে গম্বুজগুলো রয়েছে সেগুলো বাংলা চৌচালা গম্বুজ। এদের দুপাশে দুসারিতে তিনটি করে মোট ১২টি অর্ধ-বৃত্তাকার গম্বুজ রয়েছে। এ মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বাইরের যে-কোনো পাশ থেকে তাকালে কেবল পাঁচটি গম্বুজ দেখা যায়, অন্য গম্বুজগুলো দৃষ্টিগোচর হয় না।
ছোট সোনা মসজিদের প্রবেশদ্বারের ১৫ মিটার পূর্বে একটি প্লাটফরমের ওপর পাশাপাশি দুটি প্রাচীন সমাধি রয়েছে। সমাধি দুটির আকার একত্রে উত্তর-দক্ষিণে ৪.২ মিটার (১৪ ফুট) এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৬.২ মিটার (২০ ফুট)। সমাধি দুটির ভিত থেকে চারদিকে কালো পাথরের কয়েকটি আয়তাকার ধাপ রয়েছে-যেগুলো ক্রমশ উপরের দিকে হ্রাস পেয়েছে। দুটি সমাধিতে রয়েছে কোরানের আয়াত ও আল্লাহর কয়েকটি নাম সংবলিত পিপাকৃতি পাথরের সমাধিফলক। এছাড়া চারকোণে চারটি পাথরের নকশা করা ছোট পিলার রয়েছে।
জেনারেল কানিংহাম সমাধি দুটিকে মসজিদের নির্মাতা ওয়ালী মুহম্মদ ও তার পিতা আলীর বলে মনে করেন। তাছাড়াও এই কবর দুটির পাশে আরো কয়েকটি পুরাতন পাকা কবর রয়েছে। কবরগুলো কার এ সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। এই অনন্য সুন্দর ঐতিহাসিক মসজিদ দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক পর্যটকের আগমন ঘটে।
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি
সোনা মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সাম্প্রতিক সময়ের দুটি কবর রয়েছে। কবর দুটি উত্তর-দক্ষিণে ৪.১ মিটার, পূর্ব-পশ্চিমে ৪.৭ মিটার দীর্ঘ এবং ১.৩ মিটার উঁচু ইটের প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। কবর দুটি বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর নাজমুল হক-এর। এরা দুজনই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ হন।
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বরিশালের রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালের ৫ই অক্টোবর কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন। নিষ্ঠার সাথে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর ১৯৬৮ সালের ২রা জুন কমিশন প্রাপ্ত হন। ছয় মাস চাকরি করার পর তিনি রিসালপুরস্থ মিলিটারি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এ যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী যখন বাংলাদেশে ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত ছিল, তখন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কারাকোরামের পার্বত্য সীমান্ত রক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে শিয়ালকোট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশ করেন।
সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকার ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর যোগ্য অধিনায়কত্বে মুক্তিবাহিনী হানাদারবাহিনীর সকল স্তরের সৈনিকদের মধ্যে মহাত্রাসের সঞ্চার করেছিল। মুক্তিসেনারা ঝাঁপিয়ে পড়লে শত্রুদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটিগুলোর একের পর এক পতন ঘটতে থাকে।
১৯৭১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মহানন্দা নদী অতিক্রম করে শত্রু সৈন্যদের ধ্বংস করার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে অগ্রসর হন। ১৪ ডিসেম্বর শত্রুদের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে বুলেটের আঘাতে এই বীর সৈনিক শাহাদত বরণ করেন। ১৫ই ডিসেম্বর শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মৃতদেহ ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী তার কবর জিয়ারত করতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসেন।
পাঁচশ বছরের পুরনো তেঁতুল গাছ
নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের সুবলা গ্রামে প্রায় ৫০০ বছরের অতি প্রাচীন একটি তেঁতুল গাছ রয়েছে। এর উচ্চতা প্রায় পৌনে দুইশ ফুট এবং দশ কাঠা (১৬.৫ শতক) স্থান জুড়ে এর ব্যাপ্তি। গাছটিকে ঘিরে নানান কল্পকথা ছড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী প্রাচীন এই গাছটি দেখতে আসেন। ফলে স্থানটি পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এ গাছের নিচে পূজা অর্চনা করে। জনশ্রুতি মতে, অতীতে সুবলা গ্রামে কুঞ্জ মোহন মিত্র নামে একজন জমিদারের বসতভিটা ছিল। সেকালে প্রতি বৈশাখ মাসে গাছটিকে ঘিরে ৫ দিনব্যাপী মেলা বসত।
শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.) মসজিদ ও মাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় শাহ্ সুজার প্রাসাদ বা তহাখানার উত্তর-পশ্চিম কোণে এই সুরম্য তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটি অপেক্ষাকৃত উঁচু ভিটার ওপর অবস্থিত। মসজিদটির পূর্ব অংশে প্রশস্ত আঙিনা নকশাযুক্ত প্রাচীরবেষ্টিত। প্রাচীরের মধ্যভাগের প্রবেশপথের দুই প্রান্তে দুটি ছোট বুরুজ রয়েছে।
ঐশ্বর্যমণ্ডিত এ মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ১৯.৩৫ মিটার (৬৩.৫ ফুট) দীর্ঘ ও পূর্ব-পশ্চিমে ৭.৩৯ মিটার (২৪.২৫ ফুট) প্রশস্ত। সমস্ত মসজিদটি চুন ও পোড়ামাটির প্লাস্টার দ্বারা আবৃত। পূর্বদিকের মধ্য দরজার সম্মুখের খিলান কুলুঙ্গি প্যানেল দ্বারা জমকালোভাবে সজ্জিত। সব মিলিয়ে মসজিদটির অবয়ব ও নকশা অলংকরণ খুবই আকর্ষণীয়। বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত মসজিদ প্রাঙ্গণটি বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান দ্বারা শোভিত।
শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.) মসজিদের উত্তরে তার মাজার শরিফ অবস্থিত। এটি বাংলায় নির্মিত সর্বপ্রথম মোগল যুগের স্থাপত্য নিদর্শন। উঁচু ভিটার উপর নির্মিত এ সমাধিটি বর্গাকৃতির এক গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত। মূল সমাধি ভবনের অভ্যন্তরে ইতিহাস খ্যাত ওলী শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.) অন্তিম শয্যায় শায়িত।
ঐতিহাসিক সূত্র মতে, হজরত সৈয়দ শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.) কোরাইশ বংশীয় ছিলেন এবং তার পূর্বপুরুষগণ আরব থেকে ভারতবর্ষে আগমন করেন। শাহ নেয়ামতউল্লাহর (র.)-এর জন্য ভারতের দিল্লি মতান্তরে কাশ্মীর প্রদেশে। সম্রাট শাহজাহান, সম্রাট আওরঙ্গজেব ও পূর্ববঙ্গের শাসক শাহ সুজা সকলেই শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.)-এর ভক্ত ছিলেন। সম্রাট শাহজাহান শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.)-কে ৪০০ বিঘা (১৩৩ একর) এবং সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে ৮৮৩৬ বিঘা (২৯২১ একর) জমি দান করেন।
তিনি এত বড় পণ্ডিত ছিলেন যে, কোরানে যতগুলো অক্ষর রয়েছে ততগুলো অক্ষরে ফারসি ভাষায় কোরান অনুবাদ করেন। তার কবরের শিয়রে একটি আরবি ক্যালিগ্রাফযুক্ত প্রস্তরলিপি রয়েছে। মাজারের দক্ষিণ-পূর্বে আরো একটি সমাধি ভবনে দুটি কবর রয়েছে। ধারণা করা হয়, কবর দুটি শাহ সাহেবের সহধর্মিণীদের। পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে তার দুই ছেলের আরো দুটি কবর রয়েছে। ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার শাহ সাহেবের ইসালে সওয়াব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
তাহখানা
তাহখানা বা তহাখানা একটি ত্রিতল রাজপ্রাসাদ। তাহখানা ফারসি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ঠান্ডা ভবন। শিবগঞ্জ উপজেলায় দাফিউল বালা নামক একটি দিঘির পাড়ে এটি অবস্থিত। এর একটি তলা ভূগর্ভে এবং অন্য দুটি তলা উপরে। তন্মধ্যে ৩য় তলাটির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। এক সূত্র মতে, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা বাংলার সুবেদার থাকাকালে তার মুর্শিদ হজরত শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.)-এর প্রতি ভক্তির নিদর্শনস্বরূপ এ প্রাসাদ নির্মাণ করেন। শাহ সুজা মাঝেমধ্যে হজরত শাহ নেয়ামতউল্লাহ (র.)-এর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁর এই প্রাসাদে কিছুদিন অতিবাহিত করতেন। এছাড়া এখানে একটি কুয়াঘর এবং দুটি খোলাঘর রয়েছে। মোগল যুগের এ প্রাচীন নিদর্শনটি সেই যুগের উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বাবুডাইং
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাশহর থেকে মাত্র ৮ কিমি. পূর্ব-দক্ষিণে নৈসর্গিক স্থান বাবুডাইং সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের বাবুডাঙ্গায় ২০০ একর খাস জমিতে গড়ে উঠেছে। উঁচু কয়েকটি টিলার জন্যই এক সময়ের বাবুডাঙ্গা আঞ্চলিকভাবে এখন বাবুডাইং নামে পরিচিত।
ছোট-বড় ২৬টি টিলার সমন্বয়ে গঠিত বাবুডাইং-এ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছ রোপণ করেছে- যা এলাকাটির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে এখানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার গাছ আছে।
এছাড়াও এখানে ৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ হ্রদে একটি ক্রসড্যাম নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় তা দেখতে কৃত্রিম ঝরনার মতো মনে হয়।
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ১৯ কিমি. উত্তরে শাহাবাজপুর ইউনিয়নে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর অবস্থিত। এ স্থলবন্দর দিয়ে সারাবছরই ফল, কয়লা, পাথর, মসলা ও কৃষি পণ্য প্রভৃতি আমদানি হয়। স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে অনেক লোকজনের সমাবেশ ঘটায় এতদঅঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও স্থলবন্দরের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে কিছু হাটবাজার গড়ে উঠেছে। এই স্থলবন্দরটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর।
ঐতিহাসিক আলীশাহপুর মসজিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিমি. পশ্চিমে ফতেপুর ইউয়িনের আলীশাহপুর গ্রামে প্রায় পাঁচশ বছরের পুরনো একটি প্রাচীন মসজিদ কালের সাক্ষী হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। গম্বুজের চূড়ায় একটি মিনার আছে। মসজিদের দেয়ালের প্রস্থ ৯১ সেমি. (৩৬ ইঞ্চি) এবং দেয়ালের প্রশস্ততা ১০৭ সেমি. (৪২ ইঞ্চি)। মসজিদের চার কোনায় ৪টি বুরুজের উপর ছোট চারটি মিনার রয়েছে। উত্তর-দক্ষিণে ২টি খিলান জানালা রয়েছে।
ভেতরের পশ্চিম দেয়ালে খিলান আকৃতির একটি ছোট মেহরাব রয়েছে এবং পূর্ব দেয়ালের মধ্যে রয়েছে একটি খিলান দরজা। মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোনায় রয়েছে একটি পুকুর। এ মসজিদটি নির্মাণের সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও উপকরণ দেখে ধারণা করা হয়, এটি ৫ থেকে ৬শ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় মতে, আলীশাহ নামক এক বুজুর্গ ব্যক্তি ধর্ম প্রচারের জন্য এ এলাকায় এসে মসজিদটি নির্মাণ করেন। আর এ কারণে তাঁর নামানুসারেই গ্রামের নাম আলীশাহপুর হয়েছে।
এলাকাবাসীদের থেকে জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে মসজিদটির চতুর্দিক বনজঙ্গলে পূর্ণ ছিল। তখন এটিকে কেউ মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করত না। স্বাধীনতার পর নিকটবর্তী ফুরশেদ গ্রামের রসুল মিয়া মসজিদটি পরিষ্কার করে তার ছেলেদের নিয়ে সর্বপ্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে মসজিদটি আরো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়।
বর্তমানে এটি ঐ গ্রামের জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মসজিদটির আধা কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পীর পুকুর নামে একটি উঁচু ঢিবি ও পুকুরের অস্তিত্ব বিদ্যমান। জঙ্গলাকীর্ণ এ ঢিবিটির আশপাশে প্রচুর টুকরো পাথর ও ইটের ভগ্নাংশ দেখে স্থানীয় লোকেরা এটিকে মসজিদ নির্মাতা আলীশাহের মাজার বলে অনুমান করেন।
নওদা বুরুজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৮ মাইল (৩২ কিমি.) পশ্চিমে গোমস্তাপুর উপজেলায় বিখ্যাত বাণিজ্য কেন্দ্র রহনপুর অবস্থিত। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পুনর্ভবা নদী। রহনপুর রেল স্টেশনের ঠিক উত্তরে এক কিলোমিটার গেলেই বেশ উঁচু একটি ঢিবি নজরে পড়ে- যা নওদা বুরুজ নামে খ্যাত, স্থানীয়ভাবে এটি ষাঁড় বুরুজ নামে পরিচিত। নওদা বুরুজের চতুর্পার্শ্বেই শুধু নয়-রহনপুর এলাকাতেই প্রাচীনত্ব ও নগরসুলভ চিহ্ন বিরাজমান। কোনো কোনো ইতিহাস অনুসন্ধানী রহনপুরকে প্রাক-মুসলিম যুগের উন্নত নগরী বলে উল্লেখ করেছেন। রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলে (১১৭৮-১২০৬ খ্রি.) রহনপুর সমৃদ্ধ বাণিজ্য নগরী হিসেবে গড়ে ওঠে।
ঐতিহাসিক এক সূত্র মতে, বাংলা বিজয়ী ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী এ পথে বাংলায় আগমনের সময় রাজা লক্ষ্মণ সেন এ স্থান থেকে নদীপথে পলায়ন করেন। বাণিজ্যিক কারণেই লক্ষ্মণ সেন রহনপুরে সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্টালিকাটির প্রকৃত নাম শাহ বুরুজ, যার অর্থ বাদশাহ’র অট্টালিকা বা বালাখানা।
কানসাটের জমিদার বাড়ি
শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট একটি প্রাচীন গ্রাম। এখানকার জমিদারদের আদি পুরুষ প্রথমত বগুড়া জেলায় বসতি স্থাপন করেন। দস্যু সর্দার পণ্ডিতের অত্যাচারে তারা ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছাতে স্থানান্তরিত হন। পরে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে এসে স্থায়ী হন। সূর্যকান্ত, শশীকান্ত ও শীতাংশুকান্ত এই বংশের অধস্তন বংশক্রম। তারা জমিদারি কাজ ছাড়াও হাতি কেনাবেচা করতেন। এরা মুসলিম বিদ্বেষী জমিদার হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করে। প্রজা সাধারণের জন্য এরা কিছু রেখে যেতে পারেননি। এই জমিদারদের আবাসস্থল বর্তমানে একটি পর্যটন স্থলে পরিণত হয়েছে।
কোতোয়ালী দরওয়াজা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার পশ্চিম সীমানা-বালিয়াদিঘির প্রায় সন্নিকটে বাংলাদেশ চেকপোস্টের উত্তর সীমানায় অবস্থিত কোতোয়ালী দরওয়াজা উপমহাদেশের প্রথম দিকের মুসলিম স্থাপত্যকীর্তির এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। অতীতে গৌড়ের রাজধানী নগরে প্রবেশ করতে হলে দক্ষিণ নগর উপকণ্ঠের অধিবাসীদের এই তোরণ অতিক্রম করতে হতো। নগর দ্বার রক্ষার জন্য এখানে কোতোয়াল নিয়োজিত ছিল। কোতোয়াল একটি ফারসি শব্দ। যার অর্থ নগর পুলিশ। সেই থেকে তোরণটি ‘কোতোয়ালী দরওয়াজা’ নামে প্রসিদ্ধ।
স্থাপনাটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রায় এবং এর উপরের খিলান বহুদিন আগেই পড়ে গেছে। এই তোরণটির মধ্যবর্তী খিলানের উচ্চতা ৯.৫ মিটার (৩১ ফুট) ও বিস্তার ৫ মিটার (১৬ ফুট)। প্রবেশপথের দৈর্ঘ্য ১৭ ফুট ৪ ইঞ্চি। জেনারেল কানিংহাম এটিকে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম নিদর্শনরূপে উল্লেখ করেছেন। অনুমান করা হয়, দরওয়াজাটি সুলতান আলাউদ্দিন খলজীর সমসাময়িক স্থাপত্য নিদর্শন এবং ১২২৯ খ্রিষ্টাব্দের কিছু পরে এটি নির্মিত হয়।
হযরত বুলন্দ শাহ (র.) মাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর তোয়ালা এবং এর চারণটির বিস্তার ৫ ইঞ্চি। কীর্তির বা হয়, স্থাপত্য উপজেলা থেকে প্রায় ২০ কিমি. পশ্চিমে ঝিলিম বাজার, আমনুরায় পীর আব্দুল্লাহ মাসউদ বা বুলন্দ শাহ (র.)-এর মাজার অবস্থিত। তিনি আমনুরা এলাকায় ইসলাম প্রচারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। বুলন্দ শাহের নামে এখানে একটি মহাবিদ্যালয় ও একটি নূরানী মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক হযরত বুলন্দ শাহ (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন।
এছাড়াও দেখতে পারেন বালিয়াদিঘি ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর, জোড়া মঠ, স্বপ্ন পল্লী, দারাসবাড়ি মসজিদ, দারাসবাড়ি মাদ্রাসা প্রত্নস্থল, খানিয়াদিঘি মসজিদ, ধনাইচক মসজিদ, মহারাজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মাঝপাড়া মসজিদ, চামচিকা মসজিদ। এছাড়া রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। এখানে দেখতে পাওয়া যায় চাপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গান, শিবগঞ্জের চমচম, কলাই রুটি।
ভ্রমণের প্রস্তুতি:
পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও ছোট কিছু ভুল আপনার আনন্দময় ভ্রমণকে বিব্রতকর করে তুলতে পারে। তাই ভ্রমণকে আরো উপভোগ্য এবং স্মরণীয় করে তুলতে কিছু প্রস্তুতি অবশ্যই প্রয়োজন। ভ্রমণের প্রস্তুতির জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারেন।
লিস্ট তৈরি করা
ভ্রমণের সময় আপনি কী কী করবেন এই পরিকল্পনাগুলো লিখে ফেলুন। এতে করে আপনার ভ্রমণের সময় যথাযথ ব্যবহার করা যাবে। লিস্ট অনুযায়ী ঠিক করুন কোথায় কোথায় যাবেন এবং সেখানে কত সময় অতিবাহিত করবেন।
হালকা লাগেজ
লাগেজ যতটা সম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস এড়িয়ে চলুন। তাহলে আপনি খুব সহজেই ব্যাগ বহন করতে পারবেন। অন্যথায় ভারী ব্যাগ আপনার ভ্রমণকে তিক্ত করে তুলতে পারে।
সঠিকভাবে প্যাকিং
স্যান্ডেল বা জুতা পলিথিন বা কাগজে মুড়িয়ে ব্যাগে নিন এতে কাপড় ও অন্যান্য জিনিস পত্র নোংরা হবে না। এ জাতীয় ছোট ছোট বিষয়ে খেয়াল রাখুন।
স্থানীয় খাবার
ভ্রমণে যতটুকু সম্ভব স্থানীয় খাবার খাবেন এবং সেই খাবারের স্বাদ বুঝতে চেষ্টা করবেন। আপনি যদি ঘুরতে গিয়ে নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাবার খান তাহলে আপনার ঘুরতে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। তাই ট্যুরিস্ট রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে স্থানীয় লোকজন যেখানে খায় সেখানে খাবার চেষ্টা করুন।
অফ-সিজন ভ্রমণ
ভ্রমণ মৌসুমের বাইরে ভ্রমণ করলে খরচ কমে আসবে। অফ সিজনে সাধারণত পর্যটক কম থাকে। তাই হোটেল থেকে শুরু করে পরিবহন ও খাবার প্রায় সব জায়গাতেই আপনি কম খরচে চলতে পারবেন। তাই অফ সিজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন।
যাতায়াতের ব্যবস্থা
ভ্রমণের স্থানের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিন। কারণ এসব ভ্রমণে আমাদের সবচেয়ে বেশি ঠকতে হয় স্থানীয় যানবাহন ভাড়া নিয়ে। ভাড়া সম্পর্কে ধারণা না থাকলে গাড়িচালকরা আপনার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া চাইবেন।
অতিরিক্ত টাকা
ভ্রমণে সবসময় আপনার বাজেটের বাইরে কিছু টাকা সাথে রাখুন। যেকোনো সময় যেকোনো বিপদে এই অতিরিক্ত টাকা আপনাকে হেল্প করবে। আপনি চাইলে মোবাইল ব্যাংকিং বা ডেবিট ক্রেডিট কারডের মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত টাকা সাথে রাখতে পারেন।
ছোট ব্যাগ
ভ্রমণে মোবাইল, মানিব্যাগ ও ছোট ছোট দরকারি জিনিসপত্র রাখার জন্য ছোট একটি ব্যাগ সঙ্গে রাখুন। কিছু ব্যাগ পাওয়া যায় যেটি কোমরে রাখা যায়।
চার্জার
মোবাইল ও ল্যাপটপের চার্জার নিতে ভুলবেন না। পাওয়ার ব্যাংক হলে সবচেয়ে ভালো হয়। রুমের বাইরে যাবার সময় পাওয়ার ব্যাংকটি সঙ্গে নিতে পারেন। ছবি তোলার ক্ষেত্রে মোবাইলের চার্জ অনেক বেশি খরচ হয়। তাই পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখা নিরাপদ।
ইয়ারফোন
ভ্রমণের সময় কাটানোর জন্য ইয়ারফোন বা এমপিথ্রি প্লেয়ার সঙ্গে নিতে পারেন। ছোট মাপের কোনো স্পিকার সঙ্গে নিতে পারেন। এতে করে গ্রুপের সবাই একসঙ্গে গান শুনতে পারবেন এবং একটি ভালো আড্ডা জমে উঠবে।
ঢাকা থেকে চাপাইনবাবগঞ্জ যাবেন যেভাবে:
রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়া যায়। দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, কেটিসি হানিফ, গ্রামীন ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, একতা ট্রান্সপোর্ট, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, চাঁপাই ট্রাভেলস ও যমুনা ট্রাভেলস পরিবহনের বাস ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে। এসি/নন এসি এসব বাসের ভাড়া মানভেদে ৮০০-১৫০০ টাকা। সহজ ডট কমের মাধ্যমে অনলাইনে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন বাসের টিকিট। টিকিট কাটতে এখানে ক্লিক করুন। এছাড়া বাসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়েও টিকিট কাটতে পারেন।
এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যাওয়া যায়। আসনভেদে ভাড়া লাগবে ৫৬৫ থেকে ১২৮৮ টাকা। ট্রেনের টিকিট কাটতে এখানে ক্লিক করুন।
যেখানে থাকবেন:
হোটেল স্কাই ভিউ ইন
ঠিকানা: বড় ইন্দারা মোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোবাইল: ০১৭৩৯-০৩৫৮৭৬
হোটেল রংধনু
ঠিকানা: লাখেরাজ পাড়া, মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
মোবাইল: ০১৭১২৩৩৯৬৮৭
নবাবগঞ্জ বোডিং
ঠিকানা: হাসপাতাল রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোবাইল: ০১৭১৫১৬৭৬৪৬
হোটেল স্বপ্নপুরী
ঠিকানা: আরামবাগ মোড়, বিশ্ব রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোবাইল: ০১৭১১৪১৬০৪১
হোটেল আল নাহিদ
ঠিকানা: শান্তিমোড়, আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
মোবাইল: ০১৭১৩৩৭৬৯০২
হোটেল রোজ
ঠিকানা: স্টেশন রোড, (মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন), চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোবাইল: ০১৭৪৫-৭৪১৬৪১
এছাড়া জেলা পরিষদের ডাক বাংলো ও সার্কিট হাউজে অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রীযাপন করতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে সারুয়ার হোটেল, ভাই ভাই হোটেল, ক্যাফে ভিলেজ ও শরিফা হোটেলসহ অসংখ্য খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। সুযোগ থাকলে অবশ্যই শিবগঞ্জের আদি চমচম খেয়ে দেখবেন। এছাড়া খেজুর লালির পায়েস, কলাই রুটি, কুমড়ো বড়ি ইলিশ চাপাইয়ের জনপ্রিয় খাবার।
সতর্কতা:
ইট-পাথরের শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে ভ্রমণের জন্য আকুল থাকে মন। তবে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে ভ্রমণ হয়ে উঠবে আরো আনন্দময়। ভ্রমণে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে—
পরিকল্পিত ভ্রমণ
পরিকল্পিতভাবে ভ্রমণ করলে যাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ হয়। যদি বাস বা ট্রেনের টিকিট বুকিং করার সুযোগ থাকে, তাহলে মাঝামাঝি আসন নিন। রাতের বেলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে জানালার পাশে বা বাসের খুব পেছনের আসন এড়িয়ে চলাই ভালো
নির্ভরযোগ্য যানবাহন ব্যবহার
নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য বাস বা যানবাহন বেছে নিন। সরকারি বা স্বীকৃত পরিবহন সংস্থার যানবাহন ব্যবহার করুন। বাস বা গাড়ির রুট ও সময়সূচি সম্পর্কে আগেই জেনে নিন। অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পরিষেবা (যেমন উবার, পাঠাও) ব্যবহার করলে গাড়ির তথ্য যাচাই করুন।
নিজের অবস্থান গোপন রাখুন
বর্তমান যুগে অনেকেই নিজের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। যারা সন্ধ্যার পর বা রাতে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য এটি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অপরিচিতদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। যদি সম্ভব হয়, যাত্রাপথের লাইভ লোকেশন পরিবার বা বন্ধুকে শেয়ার করুন।
চারপাশ পর্যবেক্ষণ করুন
অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত কথা বলা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা এড়িয়ে চলুন। ব্যস্ত থাকলেও মোবাইলে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন না, চারপাশের পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে বা অনুভব করলে বাসচালক বা সহযাত্রীদের জানান।
ভিড় এড়িয়ে চলুন
খুব বেশি ভিড় থাকলে বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে সেই যানবাহনে না ওঠাই ভালো। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র যেমন মানিব্যাগ, ফোন বা ব্যাগ নিজের কাছেই রাখুন।
আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন
প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য ছোটখাটো সরঞ্জাম (যেমন: পেপার স্প্রে, হুইসল, ফোল্ডিং মেটাল সেফটি রড, ইত্যাদি ) সঙ্গে রাখতে পারেন। ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডাটা চালু রাখুন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে পারেন।
জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন
স্থানীয় পুলিশ, বাস সার্ভিস হেল্পলাইন ও পরিচিতজনের নম্বর সহজেই পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। বিপদের সময় ৯৯৯ (বাংলাদেশের জরুরি সেবা) তে কল করুন।
যাত্রাপথে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কিছু খাবেন না
যাত্রাকালে অনেক যাত্রী পার্শ্ববর্তী যাত্রীকে ভদ্রতার খাতিরে বা বন্ধুসুলভভাবে খাদ্য-পানীয় গ্রহণে অনুরোধ করেন। যাত্রীর ছদ্মবেশে অনেক সময় মলম পার্টির লোকেরা খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে দেয়। এই খাবার গ্রহণের পর যাত্রীরা অচেতন হয়ে পড়লে তারা সর্বস্ব লুটে নেয়। এধরণের পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কিছু না খাওয়া নিরাপদ।
মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখুন
অনেকেই বাসে বা গণপরিবহনে যাত্রাকালে মোবাইল ফোন বের করে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করেন। এ ধরনের অভ্যাস ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বসলে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন বের না করে নিরাপদ। সম্ভব হলে, যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোন বের না করে, নিরাপদে পকেটে বা ব্যাগে রাখুন।